“বেঁচে আছে দেশমাতা বেঁচে আছে দেশ, প্রাণহীন হলে দেশমাতা নিঃশেষ হবে বাংলাদেশ”

কান্ট্রি নিউজ রিপোর্ট: বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য নিতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকেরা। বর্তমানে খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্টে বলেছেন, “বেঁচে আছে দেশমাতা বেঁচে আছে দেশ, প্রাণহীন হলে দেশমাতা নিঃশেষ হবে বাংলাদেশ।” এই উক্তিটিকে বিএনপি সমর্থকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটের প্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সাথে যুক্ত করে দেখছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেগম খালেদা জিয়া করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন, এবং তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ বলে জানিয়েছে। ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা ফ্লাইটের উপযোগী না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, তিনি সেপটিক শক, ডিসেমিনেটেড ইনট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন (ডিআইসি) এবং অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (একেআই)-এর মতো জটিলতায় ভুগছেন, এবং তার চেতনার মাত্রা (জিসিএস) ৮/১৫।

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এই উক্তিটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি কুমিল্লা-১০ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দলের একজন সক্রিয় সদস্য, এবং ফেসবুকে তার এই উক্তি খালেদা জিয়াকে ‘দেশমাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে দলের সমর্থকদের মধ্যে একতা জাগানোর চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবনতির জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন। দলটি দাবি করছে যে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটের পিছনে আওয়ামী লীগের ‘প্রতিহিংসামূলক’ কর্মকাণ্ড রয়েছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছেন, এবং বাংলাদেশের তিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা যৌথভাবে তাকে দেখতে গিয়েছেন, যা একটি বিরল ঘটনা। এছাড়া, যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এসেছে তার চিকিৎসায় সহায়তা করতে, এবং চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা এসেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে চিঠি পাঠিয়েছেন, যা বিএনপি কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তার সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন, যা বিএনপি ‘শুভেচ্ছা অঙ্গীকার’ হিসেবে দেখছে।

এই সংকটের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার পুত্র এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন, এবং তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে। দলের নেতারা দাবি করছেন যে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে, যা মোবাশ্বের আলম ভূইয়াঁর উক্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে। বিএনপি সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উক্তি শেয়ার করে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।

বাংলাদেশ এখন একটি স্থানান্তরকালীন পর্যায়ে রয়েছে, এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট দেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সহায়তায় তার অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে, এবং সকলে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *